আড়ং (Aarong) বাংলাদেশের মধ্যে অন্যতম পরিচিত এবং জনপ্রিয় একটি সামাজিক উদ্যোগ (Social Enterprise) । এটি ব্র্যাক (BRAC)-এর একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান। আড়ং নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৫ সালে প্রকাশিত হয়েছে।
আড়ং-এর প্রতিষ্ঠা ও উদ্দেশ্যঃ
আড়ং প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৭৮ সালের ১৮ ডিসেম্বর। এর প্রধান প্রতিষ্ঠাতা হলেন স্যার ফজলে হাসান আবেদ এবং আয়েশা আবেদ। আড়ং প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশের গ্রামীণ অঞ্চলের দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত কারিগরদের, বিশেষ করে নারীদের, অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে সাহায্য করা। হস্তশিল্প ও কুটির শিল্পের পণ্য বাজারজাতকরণের মাধ্যমে তাদের কর্মসংস্থান তৈরি করা এবং ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা ছিল আড়ং-এর লক্ষ্য। “আড়ং” শব্দটির অর্থ হলো “গ্রাম্য মেলা”, যা তাদের গ্রামীণ ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতির প্রতি অঙ্গীকার প্রকাশ করে থাকে। Aarong job circular 2025 pdf download and apply online in Bangladesh.
আড়ং কী ধরনের প্রতিষ্ঠানঃ
আড়ং একটি ফেয়ার ট্রেড অর্গানাইজেশন এবং ব্র্যাকের একটি অন্যতম বৃহত্তম সামাজিক উদ্যোগ। এটি শুধুমাত্র একটি ফ্যাশন হাউস বা রিটেইল চেইন নয়, বরং এটি বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করতে এবং বিশ্বব্যাপী তুলে ধরতে কাজ করে থাকে। আড়ং থেকে প্রাপ্ত মুনাফা দরিদ্র মানুষের কল্যাণে এবং ব্র্যাকের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে ব্যয় হয়।
আড়ং-এর পণ্যসমূহঃ
আড়ং বিভিন্ন ধরণের ঐতিহ্যবাহী ও আধুনিক পণ্যের জন্য পরিচিত। তাদের পণ্যের বিশাল সম্ভারের মধ্যে রয়েছে:
- পোশাক: শাড়ি, সালোয়ার কামিজ, পাঞ্জাবি, শার্ট, ফতুয়া, টি-শার্ট, প্যান্ট, শিশুদের পোশাক ইত্যাদি।
- গহনা ও অ্যাক্সেসরিজ: রিং, চুড়ি, নেকলেস, কানের দুল, চামড়ার ব্যাগ, ওয়ালেট, বেল্ট ইত্যাদি।
- গৃহ সজ্জার সামগ্রী: শো-পিস, পাটি, ওয়াল হ্যাংগিং, সিরামিক, মৃৎশিল্প, মোমবাতি, বাঁশ ও বেতের তৈরি পণ্য।
- অন্যান্য হস্তশিল্পজাত সামগ্রী: নকশিকাঁথা, ব্লক প্রিন্ট, টাই-ডাই, বাটিক, হ্যান্ড প্রিন্ট ইত্যাদি।
- জুতা ও স্যান্ডেল।
তারা প্রায় ১০০টিরও বেশি ক্যাটাগরির পণ্য বিক্রি করে থাকে।
সামাজিক প্রভাবঃ
আড়ং বাংলাদেশের অর্থনীতি ও সমাজে এক বিশাল ইতিবাচক প্রভাব ফেলে থাকে। এটি:
- নারী ক্ষমতায়ন: লক্ষ লক্ষ গ্রামীণ নারী কারিগরকে প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক স্বাধীনতা প্রদান করে। ৬৫,০০০ এরও বেশি কারু ও হস্তশিল্পী আড়ংয়ের সাথে সরাসরি কাজ করছেন, যাদের ৮০%ই নারী।
- গ্রামীণ উন্নয়ন: আয়েশা আবেদ ফাউন্ডেশন এবং অন্যান্য সাব-সেন্টারের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখে।
- ঐতিহ্য সংরক্ষণ: বাংলাদেশের সমৃদ্ধ হস্তশিল্প ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ ও বিশ্বব্যাপী তুলে ধরে।
- ন্যায্য বাণিজ্য: কারিগরদের ন্যায্য মজুরি এবং কাজের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করে।
আড়ং বর্তমানে দেশের বিভিন্ন বড় শহরগুলোতে (ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, খুলনা, বগুড়া, কুমিল্লা, যশোর, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, নারায়ণগঞ্জ, ফেনী, ফরিদপুর ইত্যাদি) তাদের ২৯টিরও বেশি আউটলেট রয়েছে। এছাড়া তারা আন্তর্জাতিক বাজারেও তাদের পণ্য রপ্তানি করে। আড়ং শুধু একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নয়, এটি একটি জীবনধারার প্রতীক যা ঐতিহ্য, নান্দনিকতা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতাকে একত্রিত করেছে। আড়ং নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৪ pdf download করুন এখানে।
আড়ং লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যঃ
আড়ং (Aarong) ব্র্যাকের একটি সামাজিক উদ্যোগ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৭৮ সালের ১৮ ডিসেম্বর। এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বহুমুখী, যা কেবল ব্যবসাভিত্তিক নয়, বরং সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রতিও নিবেদিত থাকে।
আড়ং-এর প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যঃ
আড়ং-এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে কয়েকটি মূল ভাগে ভাগ করা যায়:
- দারিদ্র্য বিমোচন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি: আড়ং-এর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো বাংলাদেশের গ্রামীণ অঞ্চলের, বিশেষ করে দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত নারী কারিগরদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। হস্তশিল্প ও কুটির শিল্পের পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের মাধ্যমে তাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করাই এর মূল উদ্দেশ্য। বর্তমানে ৬৫,০০০ এরও বেশি কারু ও হস্তশিল্পী আড়ংয়ের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত, যাদের ৮০%ই নারী।
- নারী ক্ষমতায়ন: গ্রামীণ নারীদের প্রশিক্ষণ, কাজের সুযোগ এবং ন্যায্য মজুরি প্রদানের মাধ্যমে তাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে ভূমিকা রাখা আড়ং-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। এটি তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে এবং পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতিতে সহায়তা করে থাকে।
- বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্পের সংরক্ষণ ও প্রচার: আড়ং দেশের বিলুপ্তপ্রায় বা অবহেলিত হস্তশিল্পগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করতে এবং সেগুলোকে আধুনিক ডিজাইনের সাথে মিশিয়ে জনপ্রিয় করতে কাজ করে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের সমৃদ্ধ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে দেশ-বিদেশে তুলে ধরা হয়। নকশিকাঁথা, ব্লক প্রিন্ট, জামদানি, বাটিক ইত্যাদি ঐতিহ্যবাহী শিল্পকর্ম আড়ং-এর মাধ্যমে নতুন জীবন পায়।
- ন্যায্য বাণিজ্য (Fair Trade) নিশ্চিত করা: আড়ং একটি ফেয়ার ট্রেড অর্গানাইজেশন হিসেবে কারিগরদের উৎপাদিত পণ্যের জন্য ন্যায্য মূল্য এবং কাজের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করে। এর ফলে কারিগররা তাদের শ্রমের সঠিক মূল্য পায় এবং উন্নত জীবনযাপন করতে পারে।
- মুনাফার সামাজিক ব্যবহার: আড়ং একটি সামাজিক উদ্যোগ হওয়ায় এর থেকে অর্জিত মুনাফা ব্র্যাকের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম যেমন – শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দারিদ্র্য বিমোচন ইত্যাদি খাতে ব্যয় করা হয়। এটি আড়ং-কে সাধারণ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান থেকে আলাদা করে তোলে।
- দেশীয় ফ্যাশন ও জীবনধারার উন্নয়ন: আড়ং দেশে একটি নতুন ভোক্তা শ্রেণি তৈরি করেছে, যারা দেশীয় পোশাক এবং ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্পের প্রতি আগ্রহী। এটি কেবল পোশাক নয়, বরং গহনা, গৃহস্থালী সামগ্রী এবং অন্যান্য হস্তশিল্পজাত পণ্য দিয়ে জীবনধারার মান উন্নয়নেও কাজ করে।
- কারিগরদের সামগ্রিক জীবনমান উন্নয়ন: আড়ং শুধুমাত্র পণ্য তৈরির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। ব্র্যাকের অন্যান্য কর্মসূচির সাথে যুক্ত করে কারিগরদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং অন্যান্য সামাজিক বিষয়ে জ্ঞান অর্জনের সুযোগ করে দেওয়া হয়, যা তাদের সামগ্রিক জীবনমান উন্নয়নে সহায়তা করে থাকে। Aarong jobs 2025 published in Bangladesh.
আড়ং মিশন ও ভিশনঃ
আড়ং (Aarong) একটি সামাজিক উদ্যোগ হিসেবে শুধু একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নয়, বরং এর একটি গভীর সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মিশন এবং ভিশন আছে। নিচে তা তুলে ধরা হলো।
আড়ং-এর ভিশন (Vision):
আড়ং-এর ভিশন হলো এমন একটি বিশ্ব যেখানে কোনো ধরনের শোষণ ও বৈষম্য থাকবে না এবং প্রত্যেকেই তাদের সম্ভাবনাকে উপলব্ধি করার সুযোগ পাবে। এটি আরও নির্দিষ্টভাবে বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে বিশ্বব্যাপী তুলে ধরার মাধ্যমে একটি বিশ্বমানের ফেয়ার ট্রেড ফ্যাশন হাউস হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার স্বপ্ন দেখে।
আড়ং-এর মিশন (Mission):
আড়ং-এর মিশন হলো দারিদ্র্য, নিরক্ষরতা, রোগ এবং সামাজিক অবিচারের শিকার মানুষ ও সম্প্রদায়কে ক্ষমতায়ন করা। এর হস্তক্ষেপগুলো অর্থনৈতিক ও সামাজিক কর্মসূচির মাধ্যমে বৃহৎ পরিসরে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে কাজ করে, যা নারী ও পুরুষ উভয়কেই তাদের সম্ভাবনা উপলব্ধি করতে সক্ষম করে তোলে।
আড়ং-এর মিশনের মূল দিকগুলো হলো:
মানুষ ও সম্প্রদায়ের ক্ষমতায়ন: দারিদ্র্য, নিরক্ষরতা, অসুস্থতা এবং সামাজিক অবিচারের শিকার মানুষদের অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে শক্তিশালী করা।
ইতিবাচক পরিবর্তন: অর্থনৈতিক ও সামাজিক কর্মসূচির মাধ্যমে বড় ধরনের এবং ইতিবাচক পরিবর্তন সাধন করা।
কারিগরদের জীবনমান উন্নয়ন: গ্রামীণ ও সুবিধাবঞ্চিত কারিগরদের, বিশেষ করে নারীদের, জন্য কর্মসংস্থান, ন্যায্য মজুরি এবং প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরি করা, যাতে তারা আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারে।
ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্পের সুরক্ষা ও প্রচার: বাংলাদেশের সমৃদ্ধ হস্তশিল্প এবং কারুশিল্পের ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ ও পুনরুজ্জীবিত করা এবং সেগুলোকে আধুনিক ডিজাইনের সাথে একত্রিত করে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে জনপ্রিয় করা।
ন্যায্য বাণিজ্য অনুশীলন: ফেয়ার ট্রেড নীতি অনুসরণ করে কারিগরদের পণ্যের জন্য সঠিক মূল্য নিশ্চিত করা এবং একটি নৈতিক সাপ্লাই চেইন বজায় রাখা।
মুনাফার সামাজিক বিনিয়োগ: আড়ং থেকে অর্জিত মুনাফার একটি বড় অংশ ব্র্যাকের বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে (যেমন শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দারিদ্র্য বিমোচন) বিনিয়োগ করা, যা এর সামাজিক উদ্যোগের দিকটিকে শক্তিশালী করে।
আড়ং-এর সুযোগ-সুবিধাঃ
আড়ং তার গ্রাহকদের জন্য যে প্রধান সুবিধাগুলো প্রদান করে, সেগুলো নিচে উল্লেখ করা হলো:
১. পণ্যের বিশাল বৈচিত্র:
আড়ং বিভিন্ন ক্যাটাগরির পণ্যের জন্য পরিচিত। গ্রাহকরা এখানে পোশাক (শাড়ি, সালোয়ার কামিজ, পাঞ্জাবি, শিশুদের পোশাক), গহনা, জুতা, গৃহসজ্জার সামগ্রী, হস্তশিল্প, চামড়ার পণ্য, সিরামিক, মৃৎশিল্প এবং আরও অনেক কিছু খুঁজে পান। এটি এক ছাদের নিচে প্রায় সব ধরনের ঐতিহ্যবাহী এবং আধুনিক জীবনধারার পণ্য কেনার সুযোগ করে দেয়।
২. গুণগত মান এবং কারিগরি দক্ষতা:
আড়ং-এর প্রতিটি পণ্যই বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্পীদের হাতে তৈরি, যা পণ্যের গুণগত মান এবং মৌলিকত্ব নিশ্চিত করে। গ্রাহকরা এখানে কেবল পণ্যই কেনেন না, বরং একটি গল্প, একটি ঐতিহ্য এবং শিল্পকর্মের গুণগত মানও উপভোগ করেন।
৩. ন্যায্য বাণিজ্য (Fair Trade) নিশ্চিতকরণ:
আড়ং একটি সামাজিক উদ্যোগ হওয়ায়, গ্রাহকরা জানেন যে তাদের কেনা পণ্যের একটি অংশ সরাসরি গ্রামীণ কারিগরদের জীবনমান উন্নয়নে সহায়তা করছে। এটি একটি নৈতিক কেনাকাটার অভিজ্ঞতা প্রদান করে, যেখানে গ্রাহকরা সামাজিক পরিবর্তনে অংশ নিতে পারেন।
৪. ‘মাই আড়ং রিওয়ার্ডস’ (My Aarong Rewards) লয়্যালটি প্রোগ্রাম:
আড়ং তার নিয়মিত গ্রাহকদের জন্য একটি বিশেষ লয়্যালটি প্রোগ্রাম চালু করেছে। এর মাধ্যমে গ্রাহকরা প্রতিটি কেনাকাটায় পয়েন্ট অর্জন করতে পারেন, যা পরবর্তীতে ডিসকাউন্ট বা অন্যান্য সুবিধা হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এই প্রোগ্রামের বিভিন্ন স্তর (Lifestyle, Gold, Platinum) রয়েছে, যেখানে উচ্চ স্তরের গ্রাহকরা আরও বেশি সুবিধা পান, যেমন:
- প্রতি ১০০ টাকা কেনাকাটায় পয়েন্ট অর্জন।
- পয়েন্ট ব্যবহার করে ভবিষ্যতে ডিসকাউন্ট।
- বিশেষ অফার এবং পার্টনার ব্র্যান্ডের সাথে ডিসকাউন্ট।
- My Aarong Rewards এবং Club Taaga (তাগা এবং তাগা ম্যানের জন্য) উভয়ই এই লয়্যালটি প্রোগ্রামের অংশ।
৫. সহজ বিনিময় ও ফেরত নীতি (Return & Exchange Policy):
আড়ং তার গ্রাহকদের জন্য একটি সহজ এবং সুবিধাজনক বিনিময় ও ফেরত নীতি প্রদান করে। সাধারণত, পণ্য কেনার ৩০ দিনের মধ্যে শর্ত সাপেক্ষে পণ্য বিনিময় বা ফেরত দেওয়া যায়। গোল্ড জুয়েলারি এবং অন্যান্য পণ্যের জন্য নির্দিষ্ট শর্তাবলী প্রযোজ্য। এটি গ্রাহকদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং স্বাচ্ছন্দ্যে কেনাকাটার সুযোগ দেয়।
৬. অনলাইন শপিং সুবিধা:
আড়ং-এর একটি সুসংগঠিত অনলাইন স্টোর (aarong.com) রয়েছে, যা গ্রাহকদের ঘরে বসেই পছন্দের পণ্য কেনার সুযোগ করে দেয়। অনলাইন প্ল্যাটফর্মে রয়েছে:
- বিস্তত পণ্যের সমাহার।
- পণ্য ব্রাউজ ও তুলনা করার সুবিধা।
- সহজ অর্ডারিং প্রক্রিয়া।
- হটলাইন সাপোর্ট।
- বিভিন্ন পেমেন্ট অপশন (যেমন, ক্যাশ অন ডেলিভারি, অনলাইন পেমেন্ট)।
- আন্তর্জাতিক শিপিং-এর সুবিধা (নির্দিষ্ট দেশগুলোতে)।
৭. গিফট ভাউচার:
আড়ং গিফট ভাউচার চালু করেছে, যা গ্রাহকদের পছন্দের মানুষকে উপহার দেওয়ার একটি সহজ উপায়। উপহার প্রাপক নিজের পছন্দ অনুযায়ী আড়ং থেকে পণ্য কিনতে পারেন।
৮. দেশব্যাপী আউটলেট:
বাংলাদেশের প্রধান শহরগুলোতে আড়ং-এর অসংখ্য আউটলেট রয়েছে, যা গ্রাহকদের সরাসরি দোকানে গিয়ে পণ্য দেখে কেনার সুযোগ করে দেয়। আউটলেটগুলোতে একটি মনোরম কেনাকাটার পরিবেশ থাকে।
৯. কর্পোরেট সেলস ও এক্সপোর্ট সুবিধা:
আড়ং বড় পরিসরে কর্পোরেট অর্ডার গ্রহণ করে এবং আন্তর্জাতিক বাজারেও তাদের পণ্য রপ্তানি করে, যা বৃহত্তর পরিসরের গ্রাহকদের কাছে পৌঁছাতে সহায়তা করে থাকে।
আড়ং চাকরির সুযোগ-সুবিধাঃ
আড়ং (Aarong) ব্র্যাকের একটি সামাজিক উদ্যোগ হওয়ার কারণে, এখানে চাকরির ক্ষেত্রে প্রচলিত বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি কিছু স্বতন্ত্র সুবিধাও রয়েছে। কর্মীদের জন্য আড়ং একটি স্থিতিশীল এবং সহায়ক কর্মপরিবেশ প্রদানের চেষ্টা করে থাকে।আড়ং-এ কাজ করার ক্ষেত্রে কর্মীরা সাধারণত যেসব সুবিধা পেয়ে থাকেন, সেগুলো নিচে উল্লেখ করা হলো:
১. স্থিতিশীল কর্মপরিবেশ ও সামাজিক প্রভাব:
আড়ং ব্র্যাকের একটি অংশ হওয়ায়, এখানে কর্মপরিবেশ তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল এবং সুসংগঠিত। কর্মীরা সরাসরি দেশের সামাজিক উন্নয়নে এবং গ্রামীণ কারিগরদের জীবনমান পরিবর্তনে অবদান রাখার সুযোগ পান। এটি কর্মীদের মধ্যে একটি ইতিবাচক কাজের অনুভূতি তৈরি করে থাকে। Aarong job circular 202 pdf download and apply online.
২. পেশাগত বৃদ্ধি ও উন্নয়নের সুযোগ:
আড়ং কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং পেশাগত উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও কর্মশালার ব্যবস্থা করে থাকে। নতুন প্রযুক্তি, ডিজাইন বা ব্যবস্থাপনা কৌশল শেখার সুযোগ থাকে, যা কর্মীদের ক্যারিয়ারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
৩. প্রতিযোগিতামূলক বেতন ও ভাতা:
আড়ং কর্মীদের জন্য প্রতিযোগিতামূলক বেতন কাঠামো প্রদান করে, যা বাজারের অন্যান্য সমমানের প্রতিষ্ঠানের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। এছাড়াও, উৎসব ভাতা, পারফরম্যান্স বোনাস (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) এবং অন্যান্য আর্থিক সুবিধা থাকতে পারে।
৪. স্বাস্থ্য ও বীমা সুবিধা:
কর্মীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য আড়ং চিকিৎসা সুবিধা এবং গ্রুপ বীমা প্রদান করতে পারে। এটি কর্মীদের এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।
৫. কর্ম-জীবনের ভারসাম্য (Work-Life Balance):
আড়ং কর্মীদের কর্ম-জীবনের ভারসাম্যের প্রতি গুরুত্ব দেয়। ছুটির নীতি, কাজের সময় এবং অতিরিক্ত কাজের (Overtime) ক্ষেত্রে একটি সুষ্ঠু নীতিমালা বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়, যদিও রিটেইল সেক্টরে বিশেষ করে ছুটির দিনগুলোতে কাজের চাপ বেশি হতে পারে।
৬. নৈতিক কর্মপরিবেশ:
একটি সামাজিক উদ্যোগ হিসেবে আড়ং নৈতিকতা ও মূল্যবোধের প্রতি অত্যন্ত শ্রদ্ধাশীল। কর্মীরা একটি স্বচ্ছ এবং সম্মানজনক পরিবেশে কাজ করার সুযোগ পান, যেখানে বৈষম্য বা হয়রানির সুযোগ কম থাকে।
৭. অভ্যন্তরীণ প্রমোশন ও ক্যারিয়ার পাথ:
আড়ং তার কর্মীদের জন্য অভ্যন্তরীণ প্রমোশন এবং ক্যারিয়ার অগ্রগতির সুযোগ তৈরি করে। ভালো পারফরম্যান্স এবং সঠিক দক্ষতার মাধ্যমে কর্মীরা উচ্চ পদে উন্নীত হতে পারেন।
আড়ং-এ কাজ করা কেবল একটি চাকরি নয়, বরং এটি দেশের হস্তশিল্প ও সংস্কৃতির উন্নয়নে ভূমিকা রাখা এবং হাজার হাজার কারিগরের জীবন পরিবর্তনে সহায়তা করার একটি সুযোগও বটে। আড়ং অ্যাসোসিয়েট অফিসার পদে নিয়োগ দিচ্ছে ।
নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানের তথ্য
| প্রতিষ্ঠানের নাম | আড়ং |
| প্রতিষ্ঠানের ধরন | বেসরকারি প্রতিষ্ঠান |
| টেলিফোন নাম্বার | +৮৮০১৭১৩-০৬৬৯১৪ |
| ইমেইল | customerservice.aarong@brac.net |
| ওয়েব | www.aarong.com |
| ঠিকানা | আড়ং সেন্টার (Aarong Centre), ৩৪৬ তেজগাঁও আই/এ (Tejgaon I/A), ঢাকা-১২০৮, বাংলাদেশ। |
নিয়োগকৃত পদের নাম ও সংখ্যা
| নং | পদের নাম | পদের সংখ্যা |
| ১ | অ্যাসোসিয়েট অফিসার | নির্ধারিত নয়। |
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো
| প্রতিষ্ঠানের নাম | আড়ং |
| বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের তারিখ | ১৪ জুলাই ২০২৫ ইং |
| বিজ্ঞপ্তি সোর্স | বিডি জবস ১৪ জুলাই ২০২৫ ইং |
| নিয়োগের স্থান | ঢাকা |
| জবের ধরন | স্থায়ী |
| পদের ক্যটাগরি | ১ টি |
| শূন্যপদের সংখ্যা | অনির্ধারিত |
| আবেদন শুরুর তারিখ | ১৪ জুলাই ২০২৫ ইং |
| আবেদন শেষের তারিখ | ২৪ জুলাই ২০২৫ ইং |
বয়সসীমা
আবেদনকারীর বয়স নির্ধারিত নয়।
যেভাবে আবেদন করবেন
এই ওয়েবসাইটে গিয়ে আবেদন করতে হবে।
বিঃদ্রঃ আবেদনের সময় কোন ভুল তথ্য প্রদান করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান আপনার আবেদন বাতিল করতে এবং আপনার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করতে পারেন। তাই আবেদনের পূর্বে নিচে দেওয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটি ভাল করে পরে দেখুন এবং নিশ্চিত হয়ে নিন।
বিভিন্ন চাকরির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি এবং পরীক্ষার ফলাফল পেতে আমাদের সাথেই থাকুন। সাথে থাকতে ঘুরে আসুন আমাদের ফেচবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যনেলে
